গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ: উপকারী না ক্ষতিকর? দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে কী হতে পারে!

গ্যাস্ট্রিকের-ওষুধ-উপকারী-না-ক্ষতিকর-.webp

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি সাধারণ সমস্যা। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ যেমন প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) বা অ্যান্টাসিড অনেকেই দ্রুত আরাম পেতে ব্যবহার করেন। কিন্তু, আপনি কি জানেন এই ওষুধগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে? আসুন জেনে নিই এর বিস্তারিত:

✅ ১. **পুষ্টি শোষণে সমস্যা**

PPI দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করলে শরীরের ভিটামিন B12, ক্যালসিয়াম, এবং ম্যাগনেসিয়াম শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। এতে দুর্বল হাড়, ক্লান্তি ও মানসিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

✅ ২. **অস্টিওপোরোসিস ও হাড়ের ভঙ্গুরতা**

গ্যাস্ট্রিক ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে সেবন করলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে এবং এতে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।

✅ ৩. **কিডনি সমস্যার ঝুঁকি**

দীর্ঘ মেয়াদে PPI ব্যবহারের ফলে ক্রনিক কিডনি রোগ (CKD) বা একিউট কিডনি ইনজুরি (AKI) হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

✅৪. **পেটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট**

প্রবাহমান অ্যাসিড কমে যাওয়ার ফলে অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, যার ফলে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ও সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

✅ ৫. **গ্যাস্ট্রিক ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা**

অনেক সময় দীর্ঘকালীন ব্যবহারে শরীর এই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ফলে যখন ব্যবহার বন্ধ করা হয় তখন এসিড রিবাউন্ড হয়—মানে অ্যাসিডের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়।

✅✅ কী করবেন?

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা যদি নিয়মিত হয়, তাহলে ডাক্তার দেখানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি সমস্যার মূল কারণ বের করে আপনাকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবেন। এছাড়া, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *