১. **ব্যাসিলারি আমাশয় (Bacillary Dysentery)**:
এটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, বিশেষত **শিগেলা** নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়ে।
লক্ষণ:
– মলের সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা।
– পেটের ব্যথা ও ক্র্যাম্প।
– জ্বর ও শরীর দুর্বল হওয়া।
– বারবার মলত্যাগের প্রবণতা।
ঘরোয়া প্রতিকার:
– **পানীয় লবণ ও চিনির মিশ্রণ**: পানিশূন্যতা কমাতে এই স্যালাইন জাতীয় পানীয় কার্যকর।
– **ইসবগুলের ভুসি**: এটি মল কঠিন করতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়।
– **পানীয় দুধ ও মধু**: মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে।
![]()
২. **আমিবিক আমাশয় (Amoebic Dysentery)**:
এটি **এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা** নামক পরজীবী দ্বারা সংক্রমিত হয়ে থাকে।
লক্ষণ:
– মলের সাথে শ্লেষ্মা বা রক্ত।
– পেটের ক্র্যাম্প এবং মলত্যাগের তীব্র ইচ্ছা।
– ওজন কমে যাওয়া এবং সাধারণ দুর্বলতা।
– গ্যাস বা ফোলাভাব।
ঘরোয়া প্রতিকার:
–
**মেথি বীজ (Fenugreek Seeds)**: মেথি বীজ অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ১ চা চামচ মেথি বীজ গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
–
**আদা ও মধুর মিশ্রণ**: আদা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন। এক টুকরো আদা চিবানো বা আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
–
**বেল গাছের ফল**: বেলের শাঁস বা রস আমাশয়ের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর, এটি অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
– **নারকেলের পানি**: এটি হাইড্রেশনে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে।
সাধারণ কিছু ঘরোয়া প্রতিকার (উভয় ধরনের আমাশয়ের জন্য উপকারী):
1. **কাঁচা পাকা কলা**: মসৃণ হজমে সাহায্য করে এবং মল শক্ত করতে কার্যকর।
2. **তুলসী পাতা**: তুলসী পাতার রস সংক্রমণ কমাতে এবং অন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।
সতর্কতা:
– প্রচুর পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে।
– অনেক পরিমাণে তরল খাবার এবং পানি পান করতে হবে।
– বিশুদ্ধ পানি ও সঠিকভাবে প্রস্তুত করা খাবার খেতে হবে।
যদিও এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলো আমাশয়ের উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে, তীব্র সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।